জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়। তাই ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে সংসদে।’
‘বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় শুধু বড় দুই থেকে তিনটি দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়’- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মতোই যদি সারা দেশের ভোটের আনুপাতিক হারে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় তাহলে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয় ছাত্র সমাজ আয়োজিত উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের জন্য এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই দেশে ৮টি প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ৮টি প্রাদেশিক সরকার গণমানুষের প্রত্যাশা নিখুঁতভাবে পূরণ করতে পারবে। এতে প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসহ সকল সেবা নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণমানুষের ভোটের রায় সবসময় মঙ্গলময়। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কখনো ভুল করেনা। ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ হবে। নির্বাচনে খুনাখুনি হবে না।’
এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সংবিধান থেকে ৭০ ধারা তুলে দিতে হবে। ৭০ ধারার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলীয়প্রধান সরকারপ্রধান হন, এতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনও সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারেন না। দলীয়প্রধান যা বলেন তাই কার্যকরী হয়। তাই ৭০ ধারায় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বৈরতন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে। এতে সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকে না। আর জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন নিশ্চিত হয় না। সুশাসন নিশ্চিত করতে ৭০ ধারা তুলে সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপনিবেশিক প্রথা ভেঙে অনেক গণমানুষের কল্যাণে অনেক সংস্কার করেছেন। তিনি প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে আমলাদের পরিচালিত করে ন্যায়বিচার ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিনে উপজেলা পরিষদে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অধিনে প্রশাসনকে কার্যকর করেছিলেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমলাদের এসিআর লিখতেন, এতে গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হতো। পল্লীবন্ধুর দেশ পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত ছিলো, প্রভাবমুক্ত হয়ে দেশের মানুষ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারতো। দলীয় পরিচয় ছাড়াই চাকরীতে নিয়োগ পেয়েছে সকল ধর্মের মানুষ। আইনের শাসন নিশ্চিত করে পল্লীবন্ধু দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করেছিলেন।’
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘৯১ সালের নির্বাচনের পর একটি আদেশে তৎকালীন বিএনপি সরকার গণমানুষের প্রত্যাশার উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সরকার গণদাবি মেনে আবারো উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু এতে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এতে আমলাতন্ত্রের ওপর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা নেই বললেই চলে।’
এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধুর স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘উপজেলা ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বর্তমান উপজেলা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।’
জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি ইব্রাহীম খান জুয়েল-এর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন-এর পরিচালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, ভাইস-চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, উপদেষ্টা প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম-মহাসচিব ও ফখরুল আহসান শাহজাদা প্রমুখ।
Leave a Reply